সমাজ

ফিলাডেলফিয়া সিটি হলে মুসলিম তরুণদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের দাবি

শেয়ার করুন:

ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া : ধর্মীয় স্বাধীনতা, স্কুলের নিরাপত্তা, অভিবাসন, হালাল খাবারের সুযোগ এবং বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথা জানাতে ফিলাডেলফিয়া সিটি হলে জড়ো হয়েছে মুসলিম তরুণরা।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ‘মুসলিম সিটি হল ডে ২০২৬’-এ শহরের বিভিন্ন ইসলামিক স্কুলের ৭০-এর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

CAIR-Philadelphia ও Emgage Pennsylvania যৌথভাবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা সিটি কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করে। কাউন্সিলওম্যান সিটি অব লার্জ ড. নিনা আহমদের সহযোগিতায় সিটি হলের Caucus Room-এ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ অনুষ্ঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের স্থানীয় সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং নাগরিক অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা।

আল আকসা ইসলামিক একাডেমির শিক্ষার্থী আওনি আলকতাইশাত ধর্মীয় সুযোগ-সুবিধার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ইসলাম তাদের পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং পারস্পরিক পার্থক্যকে বিভেদের কারণ না বানিয়ে বোঝাপড়া ও সম্মানের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীরা সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানায়। এর মধ্যে রয়েছে—Mayor’s Office of Muslim Engagement স্থায়ী ও অর্থায়ন করা, হিজাবসহ ধর্মীয় পোশাক ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রণয়ন, স্কুল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে নামাজের স্থান ও হালাল খাবারের সুযোগ বাড়ানো, অভিবাসীদের সুরক্ষা এবং বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় উদ্যোগ জোরদার করা।

নিউ মেডিনা লার্নিং ইনস্টিটিউটের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ক্রিস্টোফার কোলম্যান বলেন, খেলাধুলা কিংবা পার্কে সময় কাটানো—শহরের যে-কোনো স্থানে তরুণদের নিরাপদ বোধ করা উচিত। বন্দুক সহিংসতা পুরো সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব ফেলে।

CAIR-Philadelphia-এর Advocacy Projects Director আসিয়াহ জোন্স বলেন, ফিলাডেলফিয়ার মুসলিম তরুণদের কণ্ঠস্বর শোনা প্রয়োজন। ধর্মীয় সুযোগ-সুবিধা, হালাল খাবারের প্রাপ্যতা এবং মুসলিম শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলোতে আরও কার্যকর উদ্যোগ দরকার।

সিটি কাউন্সিলের সদস্য জেইমি গথিয়ার ও রু ল্যান্ডাও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনেন এবং স্কুলের নিরাপত্তা, অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে তাদের উদ্বেগের প্রতি সমর্থনের কথা জানান।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধু নাগরিক অধিকার সম্পর্কে জানানো নয়, বরং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিজেদের ও সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরার দক্ষতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ফিলাডেলফিয়ায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের নাগরিক অংশগ্রহণের কর্মসূচি স্থানীয় নীতিনির্ধারণে মুসলিম সম্প্রদায়ের মতামত তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে আয়োজকরা উল্লেখ করেছেন।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *