সপ্তাহান্তের নরইস্টারের পর নিউ জার্সির জার্সি শোরজুড়ে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে উপকূলীয় শহরগুলোতে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও সৈকতভাঙনের ক্ষত এখনো স্পষ্ট। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঝড়ের পরিস্থিতিকে ২০১২ সালের সুপারস্টর্ম স্যান্ডির সঙ্গে তুলনা করছেন।
প্রবল বাতাস, বৃষ্টি ও উচ্চ জোয়ারের মিলিত প্রভাবে উপসাগরের পানি ফুলে ওঠে এবং সমুদ্রের পানি সৈকত ও বালিয়াড়ি পেরিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে উপকূলজুড়ে ব্যাপক ভাঙন ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
নর্থ ওয়াইল্ডউডের বাসিন্দা ডেভ মুসকারেলা জানান, তাঁর বাড়ির ড্রাইভওয়ে সাধারণত কখনো প্লাবিত হয় না। এবার সেখানে ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি পানি উঠে বাড়িতে ঢুকে পড়ে। ২৫ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করা মুসকারেলার মতে, স্যান্ডির পর এটিই ছিল সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি।
ওশান সিটির বাসিন্দা রবিন শ্যাফার বলেন, শনিবার সকালে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। তাঁর ভাষায়, কিছু সময়ের জন্য মনে হচ্ছিল তাঁরা যেন ইতালির ভেনিসে বসবাস করছেন। তাঁর বাড়ির নিচ দিয়ে এবং রাস্তার ওপর প্রায় ৩ ফুট পানি উঠে যায়। চারপাশের রাস্তা ও ফুটপাত পানিতে ঢেকে যাওয়ায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, শ্যাফারকে তাঁর পোষা কুকুর ডেইজিকে শুকনো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কায়াক ব্যবহার করতে হয়। বাড়ির চারপাশে পানি জমে থাকায় কুকুরটিকে নিয়ে শুকনো জমিতে পৌঁছানোর জন্য তিনি এই ব্যবস্থা নেন।
ওয়াইল্ডউডের মেয়র আর্নি ট্রয়ানো জানান, শহরের দীর্ঘ সৈকতেও বোর্ডওয়াকের কাছে পানি জমে ছিল। ঢেউ সৈকতের বালির বাঁধ ভেঙে দেয়। ফলে বোর্ডওয়াক পর্যন্ত প্রায় ১ থেকে ২ ফুট স্থির পানি জমে যায়। মেয়র বলেন, সময়ের সঙ্গে এই পানি নেমে যাবে এবং সৈকত আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।
ট্রয়ানোর মতে, ওয়াইল্ডউডে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে ব্যাক বে বা পেছনের উপসাগরীয় এলাকা থেকে আসা পানিতে। নির্মাণকাজের কারণে এসব এলাকায় পানি বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ কমে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ব্যাক বে এলাকায় নিয়মিত ও কার্যকর ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। এ ধরনের কাজে ফেডারেল বা অঙ্গরাজ্য সরকারের অর্থায়ন চেয়েছেন মেয়র। সৈকতকে সুরক্ষিত রাখার জন্য যে বালিয়াড়ি ব্যবস্থা রয়েছে, ব্যাক বে এলাকার জন্যও অনুরূপ কোনো ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ঝড়ের বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে ওয়াইল্ডউডের আইরিশ ফল ফেস্টিভ্যালের বেশির ভাগ বাইরের আয়োজন বাতিল করা হয়। তবু অনেক দর্শনার্থী শহরে সময় কাটানোর বিকল্প উপায় খুঁজে নেন। মেয়র জানান, স্থানীয় বারগুলোতে মানুষ গেলেও স্বাভাবিক সময়ের মতো ব্যবসা হয়নি।
এদিকে উপকূলীয় শহরগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে। সাগরের পানি ও ঢেউয়ের ধাক্কায় উপকূলজুড়ে গ্রীষ্মকালে দেওয়া বালুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সরে গেছে। পরবর্তী ঝড়ের আগেই সৈকতে সেই বালি ফিরিয়ে আনা এখন স্থানীয় শহরগুলোর অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।



