১৪ অক্টোবরে
হেমন্তের স্পর্শে
কারো কারো খুব ঘুম আসে মরণের।
পরকাল স্নিগ্ধ-কি-অস্নিগ্ধ
এই নিয়ে ভাবনা ছিলো না তাঁর।
স্থিরতার ভিতরেও সে একটা অস্থির কার্তিক।
কতো জন কতোকিছু ভাবে
আর শীতের শ্যামল মরসুমে
অন্যমনষ্ক যন্ত্রণা থেকে
সবচেয়ে শান্তি পেল ১৪ অক্টোবরে।
বিবিধ চোখের ভয়াবহ জলে
সুগার কমে যাওয়া বিপন্নতা ঠেলে
শান্তির রূপসী বাংলা
মরতে চেয়েছে ১৪ অক্টোবরে।
১২ সেপ্টেম্বর, বুধবার
শরতের কচিঘাসে আপন মাহমুদের ফোন বাজে!
১২ সেপ্টেম্বর, বুধবারে এই ফোন
জাম্বুরা ফুলের পৃতিবীতে ফিরতে চায়!
শীতের আশ্চর্য সোয়েটারে সেলাই কন্যাদের মতো
এই ছেলে স্থির বসে থাকে, হাঁটে সারাদিন !
কাঁচা সুপারির পান খায়! বিহ্বল মুহূর্তে
রুদ্রের ক্যামেরার সামনে এসে বলে, বিকাল মাখানো
একটা ছবি তুলে দে।
ছেলেটার ব্যাগে অনেকের মুখ!
বাংলামটর মোড়ে জুয়েলকে বলে, ‘বলেন ওস্তাদ!
কবির কফিন কি অনেক ভারী?
কড়ই তলায় কবিকে কি শুয়ে রাখতে পারলেন?
মামুন রেড বাটনে চল। হাসান ভাইয়ের গান শুনতে হবে।
এই ঝাপসা পৃথিবীতে মাতাল হতে হবে!
আমাকে তোরা মৃত বলিস!
কিন্ত কথা না বলতে বলতে
নিজেদের জিভটাকে মেরে ফেলেছিস তোরা!
আব্বার মুখ
আপদে-বিপদে আব্বার মুখটা মনে রাখি!
লাউ ফুলের হাসিতে দয়াময় দুনিয়াকে
বোঝার আগেই দ্রাবিড়-পুরুষ সমাহিত হয়েছেন।
উনার একেকটা গানের কলি
সামনে বসিয়ে সরল মুখের উজ্জ্বলতা
জিওল মাছের মতো বেঁচে থাকি!
চোখের গণিতে তীর্থের পাগল হাসে!
দুপুরে-বিকালে হুকুমের দাস
অন্তর কি বলে তোর?
বুক ফাটা শরীরে বসেছি একা রেঁস্তোরায়!
রজনীগন্ধার রঙ হারানো কাস্টোমারের হাতেও
রজনীগন্ধার ঘ্রাণ।
রাতের বাতাসে রুটি সেঁকার আনন্দ!
রাতের বাতাসে হাসনোহেনার আফসোস!
ভেতরটা
বাড়িটার চারপাশে ঈদের আতর।
কিছু রক্ত ধুয়ে ফেলেছে মহান বৃষ্টি।
তোমাদের পাবো বলে কলমি ফুলের
ভেতরটা চুপ করে আছে।
মেহেবুব ঢাকা থেকে ঘ্রাণ নিয়ে আসে।
এতো শান্তি আর কি পাবো?
লেবু গাছের সবুজ আর কি ভিজাবে?
নাকি সবাই আপন হয়ে
আপনের সাথে চলে যাবে!
মহাপ্রকৃতি
কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তর না-মিললেও
জীবন পুরনো দূরবীন
মহাপ্রকৃতির ফুল
বুঝতে বুঝতে বৃন্ত খসে মাটিতে নেমেছে।
দেশ ও দর্শনা ঘুরে
নীল হতে হতে বোঝা যায় দংশন।
অর্জিত প্রাচুর্য তুষার সমান নদীর আত্মীয়।
আসা-যাওয়ার অক্ষরমালায়
এ-মাটির খুব অশ্রু লাগে।
পুলক চক্রবর্তী
সারাজীবন পুলক চক্রবর্তী
শরত খুঁজেছে কীর্তিনাশায়।
মরণ দেখে ফেললে চোখে
মানুষ ঘুমাতে গেছে নয়নতারায়।
খবরের মানুষও মৃত্যুনোট রেখে খবর হলেন।
ধাতব বর্ষার এই মৃত্যুনোটে, আকুতিতে
বাকেরগঞ্জের মাটি পরাজিত হলো।
কাশফুলের বাতাসে পুলক লিখেছে
সুমন, সমকালে’র বকেয়া বেতন তুলে
তোমার বৌদির হাতে দিও ।
মিহিন সন্ধ্যায় কি-যে বাস্তবতা নেমে এলো
কীর্তনখলায়।
মানুষ
জল নেমে গেছে আষাঢ়ের।
বন্দে-বিলে জলজ ফুলেরা
প্যাকের গন্ধের সাথে
মাখামাখি হয়ে জমিতে মিশেছে
সেখানেই ধান লাগাচ্ছে মানুষ।
আদা-মরিচ-রসুনে
টিনের বাড়িতে শরতের ঠাণ্ডা বাতাসেও
মানুষকে ব্যর্থ করে খুশি হয়েছে মানুষ।

সরোজ মোস্তফা ॥ কবি



