কবিতা সাহিত্য

সমুদ্র কখনো বলে না / ২ ‎|| মেকদাদ মেঘ

শেয়ার করুন:

‎কালনী নদীর বুকে চিরচেনা জল মিশে যায়
‎যদিও সকল নদী গহীন সাগরেই ঝাপটায়—
‎কালনীর তীরে শোনা যায় সেই বাউলের কত গান,
‎এপারে ওপার ভেসে আসে বিশ্বের সুরের টান।
‎জল তরঙ্গে তরঙ্গে যেন বলে ওঠে শত কথা,
‎গেয়ে যায় সাধকের চিরন্তন আনন্দ ও ব্যাকুলতা।
‎মহাকাশ জুড়ে যখন জমায় গ্রহতারা গাঢ় নীল,
‎উথাল-পাথাল ঢেউয়ের বুকে নাচে কত গাঙচিল।
কি যেন আছে সেই সমুদ্ররের ফেনার আড়ালে,
‎কে যেন দাঁড়িয়ে একতারা হাতে সেই হাত বাড়ালে!
শিয়রে বাউলের ঝাকড়া চুল বাতাসে বাতাসে ওড়ে,
‎যেমন করে কালনীর জল ছুটে যায় সুদূরে।
‎
‎সাগর কখনো কি বলে সেই ভাটিরই আখ্যান?
‎যেখানে রোদ্রতাপে, জলে ভিজে জন্মছিল সেই গান।
‎ধল গ্রামের সেই মেঠোপথ, সেই চিরচেনা ঘাস,
‎যেখানে কেটেছে মহাজনের সুরভিত বারোবাস,
সমুদ্র গর্জনে জলে স্থলে মিশে গেছে তার সুর,
‎”বন্দে মায়া লাগাইছে”—এ বাণী ছড়িয়েছে বহুদূর।
‎
‎যখন অমাবস্যা জলরাশি নির্বাক ও শান্ত হয়,
‎নক্ষত্র জলের বুকে যেন রূপালি বিস্ময়।
‎তখন ঢেউয়ে ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মনে হয়,
‎করিম শাহ যেন গাইছেন গানে নিগূঢ় সংশয়
‎গাড়ি চলে না, চলে না রে…সেই শাশ্বত আর্তি,
‎সমুদ্রের মাঝে মানুষের এক জীবনের ক্লান্তি।
‎
‎তুফান যখন আসে বুকে, ফুঁসে ওঠে জলরাশি,
‎ভাঙে কূল, ওড়ে পাল, মুছে দেয় চেনা হাসি।
‎রুদ্র রূপেও লুকিয়ে থাকে বাউলের ঐকতান,
অভাবেও মাথা উঁচু রাখার মানুষের সেই গান।
‎মাটির পুতুল দেহ, মিশে যাবে মাটিতেই,
‎তবু সাক্ষী রবে, করিমের গানের সহজে মরণ নেই।
‎
‎সমুদ্রের জল বাতাসের কল যেন মহাকাশ ছুঁতে চায়
‎বাউলের মনও তেমনি পরমাত্মার খোঁজে ছুটে যায়
‎লহরী গুনেও ক্লান্ত হওয়া না মানব জীবনে,
‎তার গান আজও শান্তি বিলায় ক্লান্ত সে শ্রবণে।
‎সমুদ্র সাগর আজ ঊর্মিমালা ঢেউয়ে ঢেউয়ে উর্ধগামী,
‎শাহ আবদুল করিমের নাম লিখে যায় জীবনের বেলাভূমি।

সমুদ্র কখনো বলে না / ১ 
মেকদাদ মেঘ প্রণীত অন্যান্য


মেকদাদ মেঘ। কবি, গীতিকার, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকাসম্পাদক

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *