কালনী নদীর বুকে চিরচেনা জল মিশে যায়
যদিও সকল নদী গহীন সাগরেই ঝাপটায়—
কালনীর তীরে শোনা যায় সেই বাউলের কত গান,
এপারে ওপার ভেসে আসে বিশ্বের সুরের টান।
জল তরঙ্গে তরঙ্গে যেন বলে ওঠে শত কথা,
গেয়ে যায় সাধকের চিরন্তন আনন্দ ও ব্যাকুলতা।
মহাকাশ জুড়ে যখন জমায় গ্রহতারা গাঢ় নীল,
উথাল-পাথাল ঢেউয়ের বুকে নাচে কত গাঙচিল।
কি যেন আছে সেই সমুদ্ররের ফেনার আড়ালে,
কে যেন দাঁড়িয়ে একতারা হাতে সেই হাত বাড়ালে!
শিয়রে বাউলের ঝাকড়া চুল বাতাসে বাতাসে ওড়ে,
যেমন করে কালনীর জল ছুটে যায় সুদূরে।
সাগর কখনো কি বলে সেই ভাটিরই আখ্যান?
যেখানে রোদ্রতাপে, জলে ভিজে জন্মছিল সেই গান।
ধল গ্রামের সেই মেঠোপথ, সেই চিরচেনা ঘাস,
যেখানে কেটেছে মহাজনের সুরভিত বারোবাস,
সমুদ্র গর্জনে জলে স্থলে মিশে গেছে তার সুর,
”বন্দে মায়া লাগাইছে”—এ বাণী ছড়িয়েছে বহুদূর।
যখন অমাবস্যা জলরাশি নির্বাক ও শান্ত হয়,
নক্ষত্র জলের বুকে যেন রূপালি বিস্ময়।
তখন ঢেউয়ে ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মনে হয়,
করিম শাহ যেন গাইছেন গানে নিগূঢ় সংশয়
গাড়ি চলে না, চলে না রে…সেই শাশ্বত আর্তি,
সমুদ্রের মাঝে মানুষের এক জীবনের ক্লান্তি।
তুফান যখন আসে বুকে, ফুঁসে ওঠে জলরাশি,
ভাঙে কূল, ওড়ে পাল, মুছে দেয় চেনা হাসি।
রুদ্র রূপেও লুকিয়ে থাকে বাউলের ঐকতান,
অভাবেও মাথা উঁচু রাখার মানুষের সেই গান।
মাটির পুতুল দেহ, মিশে যাবে মাটিতেই,
তবু সাক্ষী রবে, করিমের গানের সহজে মরণ নেই।
সমুদ্রের জল বাতাসের কল যেন মহাকাশ ছুঁতে চায়
বাউলের মনও তেমনি পরমাত্মার খোঁজে ছুটে যায়
লহরী গুনেও ক্লান্ত হওয়া না মানব জীবনে,
তার গান আজও শান্তি বিলায় ক্লান্ত সে শ্রবণে।
সমুদ্র সাগর আজ ঊর্মিমালা ঢেউয়ে ঢেউয়ে উর্ধগামী,
শাহ আবদুল করিমের নাম লিখে যায় জীবনের বেলাভূমি।
সমুদ্র কখনো বলে না / ১
মেকদাদ মেঘ প্রণীত অন্যান্য

মেকদাদ মেঘ। কবি, গীতিকার, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকাসম্পাদক



