রাজনীতি

নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বিতর্কিত ডেটা ব্যবস্থা ফেরাল সুপ্রিম কোর্ট

নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বিতর্কিত ডেটা ব্যবস্থা ফেরাল সুপ্রিম কোর্ট
শেয়ার করুন:

ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত নাগরিকদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) সংস্কার করা একটি বিতর্কিত ডেটা ব্যবস্থা আবার ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। আপাতত এই ব্যবস্থা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

এই ব্যবস্থার নাম সিস্টেমেটিক এলিয়েন ভেরিফিকেশন ফর এনটাইটেলমেন্টস বা SAVE। অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনাগরিকদের যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যবহারের জন্য প্রায় ৪০ বছর আগে এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। তবে গত বছর DHS এতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।

সংস্কারের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো SAVE ব্যবস্থাকে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রেকর্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ওই রেকর্ডে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ চালু করা হয় এবং অঙ্গরাজ্যগুলোকে তাদের সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা SAVE-এ পাঠিয়ে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব ও ফেডারেল রেকর্ডে মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকার বিষয়টি যাচাই করতে উৎসাহিত করা হয়।

২০২৫ সালের মে মাস থেকে সংস্কার করা SAVE ব্যবস্থা ২৬টি অঙ্গরাজ্যে ৬ কোটি ৫০ লাখের বেশি ভোটার যাচাই করেছে বলে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৬৩৫ জনকে সম্ভাব্য অনাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তবে এই ব্যবস্থার নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু যোগ্য মার্কিন নাগরিককেও ভুলভাবে সম্ভাব্য অনাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জুন মাসে ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক স্পার্কল সুকানানান SAVE-এর পরিবর্তিত সংস্করণ ব্যবহারে বাধা দেন। তাঁর মতে, সংবেদনশীল তথ্য একত্র করা ও প্রকাশের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা আইন, গোপনীয়তা আইন এবং প্রশাসনিক কার্যপ্রণালি আইন লঙ্ঘন হয়েছে।

নিম্ন আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পর আপিল আদালতের একটি প্যানেল ২-১ ভোটে তা স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাওয়ার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। সরকারের যুক্তি, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে অযোগ্য ভোটার শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে এবং এতে ফেডারেল নির্বাচনের অখণ্ডতা ও ফলাফলের ওপর জনসাধারণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

SAVE ব্যবস্থার সংস্কারের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো সংগঠনগুলো বলেছে, মার্কিন নাগরিকদের একটি ‘মাস্টার ডেটাবেস’ তৈরির অনুমতি কংগ্রেস দেয়নি। তাদের দাবি, আইনগুলো নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য অন্য কাজে ব্যবহার ও বিনিময়ের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। তারা আরও বলেছে, সরকার এখনো এই ব্যবস্থার ভুলের হার প্রকাশ করেনি। ফলে কতজন নাগরিককে ভুলভাবে অনাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

নির্বাচন সামনে থাকায় প্রশাসন দ্রুত এই সম্প্রসারিত ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারে। মার্চে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা এক নির্বাহী আদেশে SAVE ও অন্যান্য ফেডারেল রেকর্ড ব্যবহার করে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। একই আদেশে অযোগ্য ভোটারকে ব্যালট দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও মামলা অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাজটি এখনও চলছে।

ফেডারেল নির্বাচনের ৯০ দিনের মধ্যে ভোটার তালিকা থেকে ‘পদ্ধতিগতভাবে’ ভোটার বাদ দেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। তবে প্রশাসন ও রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য, অনিবন্ধিত বা ভুলভাবে নিবন্ধিত অনাগরিকদের বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়।

টেক্সাসে ১ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের পুরো তালিকা SAVE-এ যাচাই করার পর ২ হাজার ৭২৪ জনকে সম্ভাব্য অনাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরে তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়। পরবর্তী এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এদের প্রায় ২০ শতাংশকে পরে নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করে ভোটার তালিকায় পুনর্বহাল করা হয়েছে। একই তালিকা থেকে ১১৭টি মামলা সম্ভাব্য অনাগরিক ভোটদানের তদন্তে পাঠানো হয়, যা চিহ্নিত ব্যক্তিদের ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *