মাতম
ছেঁড়া পায়রা।
মুর্তি ঘিরে পৌষ।
মাদকতার আড়ালভাঙা জলরঙে অবাক দাঁড়কাক।
বাদামি পুরোনো নায়ে ডুবেছে শৈশব—ধলেশ্বরীর তীর।
চিত্রিত মঞ্চে আসে না কেউ একজন্ম পরে
মনে হয় তালপুকুরে ভেসে ওঠা গল্পকথা… মণিমালা।
ডাকিনীবিদ্যে আওড়ানো নির্মল দুপুর কোথাও।
একদিঘি জল টলমল
একআকাশ চোখ ছলছল
কে যেন খুঁজে যায় শরীরী শস্যের পোড়ামুখ?
নিখাঁদ জন্মের টানে উড়ুক্কু এক দস্যি বাউল…
করুণামাখা যে-চোখে নিভেছে আলো
হাওয়ায় শুধু ছেঁড়া ঘুড়ির মৃত হাতছানি
সুতো পড়ে থাকে।
পড়ে থাকে পৌষ
দেবীমুর্তির অমৃত আরাধনা…
কিম্ভুত চারপাশে শুধু জল, টলমল!
প্রলয়
ভুলেছো কী?
এইভাবে ভুলে যাওয়া ক্ষণ—স্মরণীয়।
বৃষ্টি যেমন—
ভুলের আঁচলে ঢেকে রাখে দুরন্ত ধুলোপনা রোদ।
স্বপ্নে তুলে রাখা সেইসব কর্পূরদানা
মৃত্যুর গান ঝরাতে ঝরাতে গেল শুধু অন্ধকার।
পাহারায় বিব্রত হতে হতে ক্লান্ত চোখের মতো
চারপাশের বিব্রত যত পাপ, অনুতাপ, শোক কিংবা জরা
সমস্ত আড়ালে দেখেছে ওই ক্লান্ত মায়ামুখ
যে শৈশবের নৃত্যরত বেশ্যার গালে দিয়েছে চুমুর ধূসরিমা
জানে কে বা তার আর্তি ভয়ংকর কতটা আর!
জঙরঙা রাতগুচ্ছ দেখায় এমন নিত্য আড়াল
শুঁকে শুঁকে কেবলই ভ্রান্ত তবু কাঙাল বকুল।
মেখেছো কী ভয়ের আবছায়ায় মায়া-তন্দ্রারূপ
পথ আর অতল অভয়ে জড়ানো গুল্মে যেমন!
গম্ভীরা
বেড়ে যায় সময়ের অসহায় আহ্বান যত।
উচ্ছ্বাসে অক্লান্ত অস্থিযুঁথ দীর্ঘ মনোরমা শরীরী।
দানপর্বে রেখে যায় চিরঞ্জীব দুঃখ অবশেষ।
তারপর নদী-কাল-যৌবন ছেঁচে তুলে নেয়া আলোর জার্নাল।
ধাবমান।
সবটুকু তার ধরে রাখা পালকের সাঁচ।
রাইসুরী বেশে বেঁচে থাকা ঘাসের সংশয়ে নেচেছে আবাস
সাঁজোয়া শরণার্থীশিবিরে উন্মাদ শোষকের আত্মমৈথুন
কক্ষপথে বেড়ানো অতীত চেনাচ্ছো যাকে
মানচিত্রে হঠাৎ পোড়াচ্ছো তারই দীর্ঘ ছায়া!
নেচে ওঠে অহেতুক মুখোশের গম্ভীরা।
সত্য
বিদ্রোহ তবু ফের উৎসবই হয়
উৎসবগুলো একালাই ফেরে বাড়ি
দুয়ারে দুয়ারে বিষণ্ণ কনভয়
স্মৃতি-বিস্মৃতি বেমানান আড়াআড়ি।
বাতাসে নাচে সহ্যের শত হাসি
হাসির আঁধারে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা
খেলতে খেলতে গড়ালো প্রহররাশি
মানুষের ঘরে পৌঁছে না পৌষবেলা।
রঙপেন্সিলে আঁকিবুঁকি শুধু ভোর
আসলে সবই কালচে আঁধারে ঢাকা
তৃষাতুর চোখ খুলে রাখে তবু দোর
ওঠে কী কখনও দারুণ আলোর রেখা?
দেখে যাওয়া এই ব্যর্থ জীবনে ক্ষত
বহু বহুদূর হেঁটে যাওয়া অযাচিত
উচিত সময়ে মৌন সকল সাহস
অ-কালে নাচে গোপন বিস্মিত!
উনুনে উঠোনে ছড়ানো শত রোদ
রোদের কাহন বেজে যায় চুপিচুপি
সময় দেখায় আঁধার কাটেনি তবু
প্রহর নাচায় শোষক বহুরূপী!

এমরান হাসান। কবি ও গদ্যকার।
জন্ম ১৩ নভেম্বর, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, যশোর ।
শিক্ষা : বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর।
গবেষণা করছেন আদি ও আখড়াই ঘরানার লালনসংগীতের সুর ও ভেদতত্ত্ব নিয়ে।
প্রকাশিত কবিতাবই : হাওয়াঘরের মৃত্যুমুদ্রা (২০২১), মোহনীয় মৃত্তিকাগণ(২০২৪), লালনপর্ব (২০২৫)।
পুরস্কার : অনুপ্রাণন তরুণ পাণ্ডুলিপি পুরস্কার (২০২৪)।
ফিলাডেলফিয়াপত্রিকা



