ওয়াশিংটন, ১ আগস্ট : যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন এক আর্থিক শর্ত যুক্ত হলো। দেশটি বাংলাদেশ সহ বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড (Visa Bond) কর্মসূচি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে প্রয়োজন মনে করলে মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তারা ব্যবসায়িক (B-1) ও পর্যটন (B-2) ভিসা আবেদনকারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত (বন্ড) জমা দিতে বলতে পারবেন।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমানো এবং ভিসার শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতেই এই কর্মসূচি স্থায়ী করা হচ্ছে। নতুন বিধান আগামী ৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা কর্মসূচিতে ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নেওয়ার বিধান ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে ৫ হাজার ডলারের বিকল্প বাতিল করে সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই অর্থ সব আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়; কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ভ্রমণ-ইতিহাস, অভিবাসন ঝুঁকি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে বন্ড আরোপ করতে পারবেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ভুটান, নেপাল, কম্বোডিয়া, জর্জিয়া, কিরগিজস্তান, মঙ্গোলিয়া, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান সহ এশিয়ার কয়েকটি দেশ। তালিকার উল্লেখযোগ্য অংশই আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নীতি বৈধ ভ্রমণকারীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন, চিকিৎসা, শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট স্বল্পমেয়াদি সফর কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক অনেক আবেদনকারীর জন্য এত বড় অঙ্কের বন্ড একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ভিসার অপব্যবহার ও ওভারস্টে কমাতে এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতেও এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নীতির ফলে অনেক যোগ্য আবেদনকারীও কেবল আর্থিক সক্ষমতার অভাবে ভিসা প্রক্রিয়ায় পিছিয়ে পড়তে পারেন। তাই আবেদনকারীদের নতুন নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
ডেস্ক, ফিলাডেলফিয়াপত্রিকা



