বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশি-আমেরিকান শিল্পী জিহান ওয়াজেদের বিশাল ম্যুরাল স্থান পেয়েছে।
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ঐতিহাসিক মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। আর সেই বিশ্বমঞ্চেই নিজের শিল্পকর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণ শিল্পী জিহান ওয়াজেদ।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ভিআইপি লাউঞ্জের সৌন্দর্য বর্ধনে তিনি এঁকেছেন প্রায় ৪০ ফুট দীর্ঘ ও ১৬ ফুট প্রস্থের একটি দৃষ্টিনন্দন ম্যুরাল। বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে একজন বাংলাদেশি শিল্পীর এমন সৃষ্টিশীল অবদান প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়।
জিহানের এই চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের প্রকৃতি, নদী, সবুজের সমারোহ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং বাঙালির প্রাণবন্ত জীবনধারার মনোমুগ্ধকর প্রতিচ্ছবি। শিল্পকর্মটি শুধু নান্দনিকতাই নয়, বরং বাংলাদেশের শিকড়, ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়কে বিশ্বদরবারে সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরার এক অনন্য প্রচেষ্টা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত রাষ্ট্রপ্রধান, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, ফিফার কর্মকর্তা, স্পন্সর, অতিথি এবং হাজারো দর্শনার্থী এই ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির এক অনন্য উপস্থাপনা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন।
বিশ্বকাপের ফাইনাল ভেন্যুর মতো মর্যাদাপূর্ণ স্থানে একজন বাংলাদেশি শিল্পীর সৃজনশীল অবদান শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি সমগ্র বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য গর্ব, অনুপ্রেরণা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিচিতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
জিহান ওয়াজেদের জন্ম লিবিয়ার বেনগাজিতে। তার পিতা ওয়াজেদ এ খান নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক বাংলাদেশ’-এর সম্পাদক।
ম্যানহাটনের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে স্টুডিও রয়েছে জিহান ওয়াজেদের। শুধু স্টেডিয়াম নয়, শিল্পী জিহানের আঁকা দেয়ালচিত্র সৌন্দর্য বাড়িয়েছে নিউ ইয়র্ক মহানগরীসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের। তার অনেক শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবন, নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-ফোর, নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টার, কুইন্স হাসপাতালে সাড়ে বারোশ বর্গফুটের ম্যুরাল, এস্টোরিয়ায় ৭০০ ফুট দীর্ঘ অগমেন্টেড রিয়ালিটি ম্যুরাল, এবং এস্টোরিয়ায় ১৭৭ ফুট দীর্ঘ ‘ওয়েলকাম এস্টোরিয়া’ ম্যুরাল।

বাংলাদেশের চিরায়ত ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলিও স্থান পাচ্ছে তার আঁকা ম্যুরালে। চিত্রাঙ্কন ছাড়াও ভাস্কর্য, কোরিওগ্রাফি এবং সৃজনশীল নানা মাধ্যমের সঙ্গে জড়িত জিহান ওয়াজেদ।
জিহান জানান, তার শুরুটা ছিল গ্রাফিতি দিয়ে। সেখান থেকেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন ম্যুরালের নিজস্ব নতুন ধারা। তার এই শৈলী পছন্দ করছেন নিউ ইয়র্কের শিল্পসমালোচকরা।
চিত্রকর্মের ওপর তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও শৈশব থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক। গত বছর অক্টোবরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতেও অংশ নিয়েছেন তিনি।
আশরাফুল ইসলাম আরিফ



