-
- ধাওয়া ও সংঘর্ষের পর দুই কর্মকর্তার গুলিতে মৃত্যু; পুলিশের দাবি—ছুরি ছিল, পরিবারের বক্তব্য—মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন জামির
ফিলাডেলফিয়া প্রতিনিধি
ফিলাডেলফিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মেফেয়ার এলাকায় পুলিশের গুলিতে ২৬ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ফ্র্যাঙ্কফোর্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় ধাওয়া ও শারীরিক সংঘর্ষের পর দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত যুবকের নাম জামির কেইভ (Jamir Cave) বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে টাইসন অ্যাভিনিউর ৪১০০ ব্লকে কয়েকটি বাড়িতে এক ব্যক্তি প্রবেশের চেষ্টা করছেন—এমন খবর পেয়ে কর্মকর্তারা সেখানে যান। পরে ৭০০০ ব্লক ফ্র্যাঙ্কফোর্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় পুলিশ ওই ব্যক্তিকে থামানোর চেষ্টা করলে তিনি দৌড়ে পালান। পুলিশ ধাওয়া করে তাকে একটি স্টোরেজ প্রতিষ্ঠানের সামনে আটকানোর চেষ্টা করে। সেখানে দুই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তার শারীরিক সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই কর্মকর্তাই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন এবং ওই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অব ইনভেস্টিগেশনস ফ্র্যাঙ্ক ভ্যানোরে জানান, ঘটনাস্থলের কাছে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শীও পুলিশ কর্মকর্তাদের ওই ব্যক্তিকে ছুরি ফেলে দিতে বলতে শুনেছেন বলে CBS Philadelphia-কে জানিয়েছেন। তবে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো তদন্তাধীন।
পরিবারের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা
ঘটনার পর নিহত জামির কেইভের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার খালা মোইকো বয়েডের দাবি, জামির সম্প্রতি আইনস্টাইন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন এবং মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসকের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলেও তিনি জানান।
পরিবারের দাবি, শুক্রবার জামির নিখোঁজ ছিলেন এবং তারা তাকে খুঁজছিলেন। তার মা এবনি বয়েড জানান, তারা তাকে নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। পরে একজন নারী তাদের জানান যে তিনি জামিরকে দেখেছেন। সেখানে গিয়ে তার মা বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি দেখতে পান।
পরিবার আরও দাবি করেছে, জামির সশস্ত্র ছিলেন না এবং তিনি বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন—পুলিশের এমন বক্তব্যের সঙ্গে তারা একমত নন। তবে পরিবারের এসব বক্তব্য এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
বডি ক্যামেরা ও ভিডিও তদন্তে
পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণে জড়িত দুই কর্মকর্তার বডি-ওর্ন ক্যামেরা ঘটনাটির সময় চালু ছিল। পাশাপাশি আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজও তদন্তকারীরা সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করবেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি প্রত্যক্ষদর্শীর মোবাইল ভিডিওও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। CBS Philadelphia-এর পর্যালোচনা অনুযায়ী, ভিডিওতে পুলিশের সঙ্গে জামিরের সংঘর্ষের মুহূর্ত দেখা যায় এবং তার ডান হাতে কোনো একটি বস্তু থাকার মতো দৃশ্যও দেখা গেছে। পুলিশও ভিডিওটিকে তদন্তের অংশ হিসেবে নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ বলছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ঘটনাটির আগে কী ঘটেছিল, সংঘর্ষের সময় ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের গুলি চালানোর পরিস্থিতি কী ছিল—এসব বিষয়ে বডি ক্যামেরা, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও অন্যান্য ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে।
নিহত জামিরের পরিবারের জন্য ঘটনাটি গভীর শোকের হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে মেফেয়ার ও উত্তর-পূর্ব ফিলাডেলফিয়ার বাসিন্দাদের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি তদন্তাধীন। পুলিশ ও পরিবারের বক্তব্যে পার্থক্য থাকায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার চূড়ান্ত কারণ বা পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।



