এডিটর'স চয়েস বিনোদন সমাজ সাহিত্য

সাড়ে ষোলো : সময়ের সাস্পেন্স থ্রিলার

শেয়ার করুন:

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হৈ চৈ এর মশহুর থ্রিলার সাড়ে ষোলো

রোজকার জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা যে রাজনীতি তার সফলতা কিংবা ব্যর্থতা, ব্যক্তির বেঁচে থাকা কিংবা মৃত্যু কোনোকিছুই ব্যক্তিটির একার উপর নির্ভর করে না। এসবের সাথে আমাদের চারপাশের রাজনীতি, অর্থনীতি, ক্ষমতা ছাড়াও আরো অনেক কিছুরই সম্পর্ক রয়েছে। তেমনই এক বোঝাপড়ার গল্পরেখা ঘিরে একটি মৃত্যু ও তার পরিণতি নিয়েই তৈরি হয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘সাড়ে ষোলো’। পরিচালক ইয়াসির আল হক। ওয়েবসিরিজটির প্রযোজক আলী আফজাল উজ্জ্বল।

স্টোরিলাইনটা দারুণ। সমকালীন। ঘটনাধারার সঙ্গে সাম্প্রতিকের অতি প্রত্যক্ষ যোগ থাকায় দর্শকদের সঙ্গে এর কানেক্টিভিটি ক্রিয়েইট হয় অনেক জোরালোভাবে।

এই সিরিজের শুরু থেকেই দেখানো হয় রাজধানীর এক অভিজাত হোটেল। হোটেলের নামটা ভায়োলেট ইন৷ সেই হোটেলের অনেক ফ্লোরের মধ্যে এক্সক্লুসিভ ফ্লোর ‘সাড়ে ষোলো’। এই ফ্লোরে শহরের তথা দেশের ধনকুবের ব্যক্তিরা বা ভিআইপিরা আসেন, টাইম স্পেন্ড করেন, বিজনেসের নানান রকম ডিল করেন, এইসব। এই ফ্লোরেই নিত্য চলে হানিট্র‍্যাপের কাণ্ডও।

দেশের একটা কারখানাভবন ধসে মারা যায় তিনশরও বেশি শ্রমিক ও আহত হয় সাতশরও বেশি এবং এই নিউজের উত্তাপ দর্শকরা টের পায় ফিকশনের ভিতরকার মিডিয়া হাউজগুলার দৌরাত্ম্যে। জাতীয় বিপর্যয় প্রায়। দীর্ঘ জটিলতা অ্যারাইজ হয়। আইন আদালত গড়ায়। রাজনীতি হয়। মানবিক স্টোরি হয়। মামলা হয়। সেই মামলার সর্বশেষ শুনানির আগের রাতে ভায়োলেট ইনের ‘সাড়ে ষোলো’ ফ্লোরে হালকা সময় কাটানোর জন্য বান্ধবী নাতাশা সহ হাজির হন কেপলার বিল্ডার্স গ্রুপের আইনজীবী আশফাক রেজা। হানিট্র‍্যাপে ফেলে আশফাক রেজাকে ফাঁসিয়ে পরের দিনের শুনানিতে যাওয়া আটকানোর জন্য ‘সাড়ে ষোলো’-তে হাজির হন সাংবাদিক রিনি, যার সাথে আশফাক রেজার বিরোধ রয়েছে আগ থেকেই। রাকিব, যিনি কেপলার গ্রুপের একজন হয়েও ওই গ্রুপের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছেন, তিনি হাজির হন হানিট্র‍্যাপের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে। আর অ্যাডিসি আলতাফ হাজির হন তারই পুরানা বান্ধবী রিনির ডাকে।

কিন্তু, এইসব প্লট সাজানোর মাঝেই এক পর্যায়ে নাতাশার লাশ পাওয়া যায় ১৬৫২ নম্বর রুমে, যেখানে নাতাশা আর আশফাক রেজা উঠেছিলেন। নাতাশা কীভাবে মারা গেলেন? খুন কে করল? কীভাবেই বা করল? কেন করল? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আপনাকে দেখতে হবে গোটা সিরিজটি।

এই সিরিজটা দাঁড়িয়ে আছে কেপলার বিল্ডার্স আর এম্পায়ার সুজের মামলার প্রেক্ষাপটটি নিয়ে। এম্পায়ার সুজের ভবন ধসে মারা যান অসংখ্য মানুষ। ডিরেক্টর ইয়াসির আল হক এলিট সোসাইটির একটা মার্ডার মিস্ট্রি বানালেও প্রত্যেক এপিসোডের শেষে জুড়েদিয়েছেন ভবনধসে মারা যাওয়া বা আহত মানুষদের নিয়ে সাদাকালো কিছু ডকুমেন্টারি। এই জিনিশটা এবং সিরিজের শুরুতে এপিসোড শুরুতে এমনই কিছু সিনেম্যাটোগ্র্যাফিক বুদ্ধিদীপ্ত প্রয়োগ কন্টেন্টের আকর্ষণ বাড়িয়ে।

আফরান নিশো, ইমতিয়াজ বর্ষণ, জাকিয়া বারী মম প্রমুখ অভিনয়শিল্পীরা সাড়ে-ষোলোতে প্রশংসনীয় নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। পঞ্চাশ বছর বয়সের বাংলাদেশের দীর্ঘতর দমবন্ধকর সময়ের ফিকশনে সেই সময়টি কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে দেখতে চাইলে হৈ চৈ স্ট্রিমিং সাইটের সাবস্ক্রিপশন নিয়ে আজই দেখে ফেলুন অনবদ্য এই বাংলাদেশি থ্রিলার সাসপেন্স সিরিজ।


আলোচনা : মাহমুদ মুস্তফি

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *