রাজনীতি

জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় বাংলাদেশিরা

শেয়ার করুন:

—রাবাব ফাতিমা, আইরিন খান ও ড. খলিলুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
—সামাজিক ব্যবসা ও তরুণদের নিয়ে ড. ইউনূসের বক্তব্য

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের নাগরিকরা। জাতিসংঘের শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্বে রাবাব ফাতিমা, বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আইরিন খান এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকে বিশেষভাবে দৃশ্যমান করেছে। এর পাশাপাশি নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সামাজিক ব্যবসা, ক্ষুদ্রঋণ ও তরুণ উদ্যোক্তা বিষয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।

বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক রাবাব ফাতিমা জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং স্বল্পোন্নত দেশ (LDC), স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ (LLDC) ও ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর (SIDS) জন্য হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালে তিনি এ পদে নিয়োগ পান। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব তাঁকে আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি এবং জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (UNAMA)-এর প্রধান হিসেবেও নিয়োগ দেন।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ আইরিন জুবাইদা খান ২৮ আগস্ট ২০২৬ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি জাতিসংঘের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক মহাসচিব এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশনের সাবেক মহাপরিচালক।

এবারের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ২ জুন ২০২৬ তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর জাতিসংঘের সঙ্গে তিন দশকেরও বেশি সময়ের পেশাগত সম্পৃক্ততা রয়েছে। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য—‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’।

সামাজিক ব্যবসা ও তরুণদের নিয়ে ড. ইউনূস

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও এবারের জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিয়ে সামাজিক ব্যবসা, ক্ষুদ্রঋণ, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তির মানবিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনের ‘সামাজিক ব্যবসা, তরুণ ও প্রযুক্তি’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে সামাজিক ব্যবসার সম্ভাবনা এবং তরুণদের নেতৃত্বে আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের ‘থ্রি জিরোস’—দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও নিট কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার—ধারণার কথাও উঠে আসে।

ড. ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার ধারণা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচিত। তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইউনাইটেড নেশনস ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। তাঁর সামাজিক ব্যবসার দর্শনের অন্যতম লক্ষ্য হলো মানুষকে শুধু সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না রেখে উদ্যোক্তা ও সমাধান-সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তোলা।

এবারের আলোচনায়ও তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, উদ্যোক্তা ও পরিবর্তনের নেতৃত্বদাতা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানও একই অনুষ্ঠানে তরুণদের অংশগ্রহণ থেকে নেতৃত্বে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

সব মিলিয়ে, ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের কূটনীতিক, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় ভূমিকা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকে নতুনভাবে দৃশ্যমান করেছে। তাঁদের দায়িত্ব ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কূটনীতি, মানবাধিকার, উন্নয়ন ও সামাজিক ব্যবসার অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক আলোচনায় স্থান পাচ্ছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *