ফিলাডেলফিয়া প্রতিনিধি : বাফালোর পর বৃহত্তর ফিলাডেলফিয়াতেও বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা নিয়ে একই ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্ন এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন বাংলাদেশ দূতাবাস ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা ফিলাডেলফিয়ার মসজিদ আল-মদিনা সহ স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এর মাধ্যমে বৃহত্তর ফিলাডেলফিয়া এলাকার হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি পাসপোর্ট, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, বিভিন্ন প্রত্যয়নসহ কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুযোগ পেয়ে আসছেন।
তবে এবার নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও পরবর্তী ভ্রাম্যমাণ সেবার তারিখ এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করছেন, ভ্রাম্যমাণ সেবা কোন সংগঠনের ব্যানারে ও কার ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হবে—এ নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট একটি মহল নিজেদের পছন্দের সংগঠনের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম আয়োজনের আগ্রহ দেখাচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কনস্যুলার সেবা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নিজস্ব বিষয় নয়; এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারি সেবা। ফলে ব্যক্তিগত, সাংগঠনিক কিংবা রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের কারণে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা যেন কোনোভাবেই ভোগান্তির শিকার না হন—এটাই কমিউনিটির প্রত্যাশা।
সম্প্রতি বাফালোতেও বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভ্রাম্যমাণ সেবা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কনস্যুলেট জেনারেল অব বাংলাদেশের নিউইয়র্ক কার্যালয় তাদের ফেসবুক পেজে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে বাফালোতে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। এর আগে সেখানে ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর সেবা দেওয়ার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছিল।
বাফালোতে সেবা বন্ধের কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা থাকলেও কনস্যুলেটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে কোনো সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ বা ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত মতপার্থক্যকে সরকারি সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।
ফিলাডেলফিয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠনগুলোর মধ্যে দ্রুত সমন্বয় জরুরি। বিশেষ করে ভ্রাম্যমাণ সেবার সম্ভাব্য তারিখ, স্থান, আয়োজক এবং ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে পরিষ্কার ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রত্যাশা করছেন প্রবাসীরা।
বৃহত্তর ফিলাডেলফিয়ায় বসবাসরত হাজারো বাংলাদেশির স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে কমিউনিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর সোচ্চার হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে কেন্দ্র করে বিভাজন সৃষ্টি না করে, সবার জন্য সমান ও নিরবচ্ছিন্ন সরকারি কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।



