-
- মিশিগানে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ড্রাইভিং শেখানোর সময় বাড়তি সতর্কতার আহ্বান
ফিলাডেলফিয়া প্রতিনিধি : যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক বাংলাদেশি বাবা। রোববার বিকেলে ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখানোর সময় তার চালানো গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ৬২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, রোববার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ওয়ার্নার অ্যাভিনিউ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আব্দুর রহিম তার মেয়েকে গাড়ি ঘুরিয়ে পার্ক করার অনুশীলন করাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গাড়ির নিচে আটকা পড়েন এবং গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ১৮ বছর বয়সী মেয়েটি ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিতে মাদক বা অ্যালকোহলের কোনো সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে ওয়ারেন পুলিশের ট্রাফিক ক্র্যাশ রিকনস্ট্রাকশন ইউনিট।
পরিবার ও কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে বড় মেয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা। তার ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে আব্দুর রহিমের মৃত্যুর খবরে মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন, পরিচিতজন ও কমিউনিটির মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন।

ড্রাইভিং শেখানোর সময় বাড়তি সতর্কতা জরুরি
এই দুর্ঘটনা নতুন চালকদের প্রশিক্ষণের সময় নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে গাড়ি ঘোরানো, রিভার্স করা বা পার্কিং শেখানোর সময় প্রশিক্ষক ও শিক্ষার্থী—উভয়েরই গাড়ির চারপাশের নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। গাড়ির চালকের দৃষ্টিসীমার বাইরে কেউ অবস্থান করছেন কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে গাড়ি চালানো বা রিভার্স করা বিপজ্জনক হতে পারে।
নতুন চালকদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে প্রশস্ত ও নিরাপদ জায়গা বেছে নেওয়া, কম গতিতে অনুশীলন করা, আশপাশে পথচারী বা অন্য কোনো বাধা না থাকা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষিত ড্রাইভিং প্রশিক্ষকের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
একজন সন্তানকে নিরাপদে গাড়ি চালানো শেখানোর উদ্দেশ্য যেন কোনো পরিবারের জন্য আজীবনের শোকের কারণ না হয়—আব্দুর রহিমের মর্মান্তিক মৃত্যু সেই সতর্কবার্তাই আবারও মনে করিয়ে দিলো।



