যুক্তরাষ্ট্রগামী দুইটি তেলবাহী জাহাজে সন্দেহজনক সাইবার হামলার পর তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কোস্ট গার্ড ও ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। গত মাসে ঘটে যাওয়া পৃথক দুই ঘটনার বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
২১ আগস্ট মেক্সিকো উপসাগরে একটি বিদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা, সাইবার সুরক্ষা সদস্য এবং এফবিআইয়ের একটি সাইবার দল। দুই সংস্থার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজটির পরিচালনাগত ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার নিরাপত্তা যাচাই করতেই বিশেষায়িত দলটি সেখানে যায়। বিদেশি সাইবার হামলাকারীদের মাধ্যমে জাহাজটির নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের ইঙ্গিত পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি জিব্রাল্টার প্রণালিতে থাকা অবস্থায় সাইবার হামলার শিকার হয়। এর পর জাহাজটির সঙ্গে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে জাহাজটি মেক্সিকো উপসাগরে পৌঁছালে মার্কিন কর্মকর্তারা সেটিতে উঠেন এবং এর পরিচালনাগত ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা পরীক্ষা করেন।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজের নাবিকেরা কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করেছেন এবং হুমকি নিয়ন্ত্রণে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এখন পর্যন্ত জাহাজটির কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন, জাহাজের স্থিতিশীলতায় সমস্যা, নাবিকদের শারীরিক নিরাপত্তার ঝুঁকি বা পরিবেশগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সাইবার হামলার শিকার হওয়া দ্বিতীয় তেলবাহী জাহাজটিতেও ২৪ আগস্ট মার্কিন কর্মকর্তারা ওঠেন। ওই জাহাজের ক্ষেত্রেও একই ধরনের মূল্যায়ন ও পরীক্ষা চালানো হয়। দুটি ঘটনাই আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতকে কাজে লাগাতে ইরান বা অন্য কোনো পক্ষ হামলায় জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলার জন্য কোনো পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করা হয়নি।
কোস্ট গার্ড ও এফবিআইয়ের যৌথ বিবৃতিতে আবারও বলা হয়েছে, বর্তমানে জাহাজগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, জাহাজ অস্থিতিশীল হয়ে পড়া, নাবিকদের শারীরিক বিপদে পড়া কিংবা পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের কোনো খবর নেই।



