বিজ্ঞান

ঈশ্বরকণার নামে এক বাঙালি বিজ্ঞানী

শেয়ার করুন:

বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নামে নামকরণ করা হিগস-বোসন কণাটি ‘ঈশ্বরকণা’ নামেও পরিচিত। গড পার্টিকল। তবে একা নন, যৌথভাবে এই আবিষ্কার মহান দুই বিজ্ঞানীর নামে অঙ্কিত, সত্যেন্দ্রনাথ বসু যদি এক হন তো অন্যজন ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস। কণার নামকরণেই ইতিহাস বিধৃত রয়েছে দেখা যায়।

পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে শক্তি হিসেবে এমন একটি কণার ধারণা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে। এর ফলে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। এই কণাটিই ফিজিক্সের যুগান্তকারী এক আবিষ্কার ‘ঈশ্বরকণা’ নামে পরিচিতি পায়।

এদিকে নিউক্লিয়ার গবেষণার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় সংস্থা সার্নের গবেষকেরা নতুন একটি অতিপারমাণবিক কণার খোঁজ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও জেনেভায় আলাদা সংবাদ সম্মেলনে সার্ন গবেষকেরা এ দাবি করেছেন। গবেষকদের দাবি, এই কণাটি হিগস-বোসন বা ঈশ্বরকণার অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের। ভূগর্ভস্থ লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে বিগ ব্যাং ঘটিয়ে এ কণার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন সার্ন গবেষণাগারের বিজ্ঞানীরা।

আবিষ্কৃত নতুন কণাটির বৈশিষ্ট্য হিগস-বোসন/ঈশ্বরকণার মতো হলেও এটিই হিগস-বোসনকণা কি না, তা জানতে আরও উচ্চতর পরীক্ষানিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন সার্নের কণাবিজ্ঞানীরা। ২০১০ সালে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে একটি মিনি বিগ ব্যাং ঘটানোর পর থেকে অপেক্ষার পালা শুরু। কল্পিত এ কণার অস্তিত্ব আদৌ আছে কি নাই, তা জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন গবেষকেরা।

সার্নগবেষকেরা দাবি করেছেন, প্রাপ্ত উপাত্তে ১২৫-১২৬ গিগাইলেকট্রন ভোল্টের কণার মৃদু আঘাত অনুভূত হওয়ার তথ্য তারা তাদের সূক্ষ্ম পাঠযন্ত্রে সংরক্ষণ করতে পেরেছেন। এ কণা প্রোটনের চেয়ে ১৩০ গুণেরও বেশি ভারী।

পিটার হিগস নিজেও এই পরীক্ষার ফলাফলে সন্তুষ্টই ছিলেন।

ছিলেন বলতে হয়, কেননা প্রায় চুরানব্বই বছর বেঁচে থেকে ২০১৩ সালে নোবেল পাওয়া এই বিজ্ঞানী মাত্র ২০২৪ সালে দেহত্যাগ করেছেন। চলে গেছেন এই এপ্রিল মাসের আট তারিখে। এক বাঙালি বিজ্ঞানীর কাজের গুরুত্ব নতুনভাবে এই পৃথিবী ফিরে দেখেছিল হিগস-বোসনকণা বা ঈশ্বরকণা আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে।

আর সত্যেন্দ্রনাথ বসু গত হয়েছেন সেই কবে, আশি বছর অব্দি আয়ু পেয়ে, ১৯৭৪ সালে।


অনির্বাণ তালুকদার

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *