সমাজ

শিফট বদলের আড়ালে সম্পর্কের গল্প : মার্শালসে মানবিকতার ছোঁয়া ।। আহমদ সায়েম

শেয়ার করুন:

প্রবাসজীবনে কর্মক্ষেত্র কেবল উপার্জনের জায়গা নয়, অনেক সময় তা হয়ে ওঠে সম্পর্কের এক নীরব ঠিকানা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপরিচিত অফ-প্রাইস খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান Marshalls-এর একটি ওয়ারহাউজে প্রতিদিনের ব্যস্ততার ভিড়েও ঠিক এমন মানবিক গল্পই তৈরি হয়।

বিশেষ করে বাঙালি কমিউনিটির কাছে এই কর্মস্থলটি যেন নির্ভরতার আরেক নাম। তিন শিফটে চলা নিরবচ্ছিন্ন কর্মযজ্ঞের ভেতরেও সহকর্মীদের মধ্যে গড়ে ওঠে আন্তরিকতা, সহযোগিতা আর এক-ধরনের পারিবারিক বন্ধন। কাজের চাপ থাকলেও, পরিচিত মুখগুলোর উপস্থিতি অনেকটাই সহজ করে দেয় প্রবাস জীবনের কঠিন বাস্তবতা।

গত ৩০ এপ্রিল, এই কর্মপরিসরে তৈরি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত। দীর্ঘ তেরো বছর ধরে একই শিফটে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা অ্যাসোসিয়েট জাহেদ হোসাইন তাঁর কর্মজীবনের একটি অধ্যায় থেকে অন্য অধ্যায়ে পা রাখেন। এতদিন ‘সি শিফট’-এ কাজ করার পর সম্প্রতি তিনি যোগ দেন ‘বি শিফট’-এ। একটি সাধারণ শিফট পরিবর্তন, কিন্তু সহকর্মীদের কাছে এর গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি।

এই উপলক্ষে সহকর্মীদের একটি দল স্বতঃস্ফূর্তভাবে আয়োজন করেন একটি ছোট্ট সংবর্ধনার। খাবারদাবার, হাসি-আড্ডা আর শুভকামনায় ভরে ওঠে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মুহূর্তগুলি। বিভিন্ন দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের এই মিলনস্থলে আবারও প্রমাণিত হয়—মানবিকতা কোনো সীমানা মানে না।

জাহেদ হোসাইনের কর্মজীবনের এই দীর্ঘ তেরো বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো নেতিবাচক প্রতিবেদন নেই বললেই চলে। বয়সে তিনি তাঁর সহকর্মীদের অনেকের চেয়ে বড় হলেও, আচরণে ও ব্যবহারে তিনি ছিলেন সমান আন্তরিক ও সহজ। কথাবার্তা ও কাজে তাঁর এই সৌহার্দ্যই সহকর্মীদের কাছে তাঁকে করে তুলেছে আপনজনের মতো। তাই শিফট পরিবর্তনের এই মুহূর্তটি অনেকের কাছেই এক ধরনের শূন্যতার অনুভূতি তৈরি করেছে।

মানুষকে মানুষ যেমন তার ভালোবাসা দিয়ে মনে রাখে, তেমনি খারাপ অভিজ্ঞতাও থেকে যায় কষ্টের স্মৃতি হয়ে। তবে জাহেদ হোসাইনের ক্ষেত্রে সহকর্মীদের স্মৃতিতে রয়ে যাবে কেবলই তাঁর সৌজন্য, সহমর্মিতা আর ইতিবাচক উপস্থিতি। একজন ভালো মানুষকে মানুষ এভাবেই মনে রাখে।

এই আয়োজন কেবল একজন সহকর্মীকে বিদায় জানানো নয়; বরং এটি ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও এমন মুহূর্তগুলো মানুষকে নতুন করে শক্তি দেয়, মনে করিয়ে দেয়—কর্মক্ষেত্রও হতে পারে একটুকরো আপন ঠিকানা।

আয়োজনে সমবেত সহকর্মীদের একটাই প্রত্যাশা—জাহেদ হোসাইনের আগামীর পথ হোক সুন্দর, শান্তিময় ও সফলতায় ভরা।


আহমদ সায়েম । কবি

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *