বাংলাদেশের কথাসাহিত্যিক মাহবুব মোর্শেদের নতুন উপন্যাস ‘ক্যান্ডি ফ্লস’ রিলিজের অফিশিয়্যাল ঘোষণা এসেছে লেখকের প্রকাশক ঐতিহ্য থেকে। সেইসঙ্গে এই বইয়ের প্রি অর্ডার গ্রহণ করাও শুরু হয়েছে। এই উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রকাশনাপ্রতিষ্ঠান ঐতিহ্য তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এক ফটোকার্ড সংবলিত প্রচারাভিযান শুরু করেছে। সেখানে, সেই প্রচারাভিযানে, এই উপন্যাসের কাহিনিরেখাটাও অনেকটাই টিজারের মতো উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই উপন্যাসের কালব্যাপ্তি ভীষণ আকর্ষণীয়। করোনার সময়টা ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে এক আধাদশকের বোধোদয় রিভিলেশন ঘটেছে এখানে। এর ফলে, এমন কালনৈকট্য থাকার কারণে, এই উপন্যাস পাঠককে বেশিভাবে সংলগ্ন করে রাখবে। এর গদ্যে। এর দেখার দেখাবার ভঙ্গিতে।
একটা মাত্র বছর-পাঁচেকের গ্যাপে লেখক পরিবর্তনটাকে ক্যাপচার করেছেন। অনবদ্য।

করোনার সময়ে মহামারিই ছিল নির্মমতম বাস্তবতা। মৃত্যু ও শোকের প্রবাহে কোনোভাবেই তাকে এড়ানোর উপায় ছিল না। তখন মানুষ ভাবতে শুরু করেছিল, মহামারি বদলে দেবে পৃথিবীকে। বিশ্বব্যবস্থা থেকে শুরু করে মানুষের সম্পর্ক, বিশ্বাস, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব—অনেক কিছু। বদলে যাবেই।
কিন্তু তিন-চার বছর বছর গড়াতে না গড়াতে, খোদ মহামারিকেই ভুলে গেল মানুষ। অস্বাভাবিকতা থেকে স্বাভাবিকে প্রত্যাবর্তনের এক বিস্ময়কর মানবীয় ক্ষমতা মহামারিকে স্মৃতির অতলে নিয়ে গেল। বিপুল বিপর্যয়কেও মানুষ আত্মস্থ করে নিলো হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো।
কীভাবে ভাতৃঘাতী একের পর এক যুদ্ধ নিউনরমাল থেকে মানুষকে নরমালে ফিরিয়ে দিলো? কীভাবে শহর থেকে হারিয়ে গেলো একেকটি স্মৃতিচিহ্ন?
মাহবুব মোর্শেদের ‘ক্যান্ডি ফ্লস’ উপন্যাসে এমন অনেক স্মৃতিচিহ্নের কথা লেখা হলো, যা মহামারির পর বেমালুম হারিয়ে গেছে। কিন্তু সেসব কোনো হাহাকারের গল্প তৈরি করেনি।

টিজারের একটা জায়গায় পাব্লিশার প্রবেশ করছেন, “ক্রমপরিবর্তনশীল জীবনে পরিবর্তনই হয়তো সত্য। কিন্তু স্মৃতিতে কি কিছুই থাকবে না? তাই ঘরবন্দি মানুষের সেই অব্যক্ত ও বিস্মৃত কথাগুলো এই উপন্যাসে লেখা হলো। আপনার গল্পও হয়তো এখান থেকেই শুরু হবে।”
এইবার মিলিয়ে দেখবার পালা। পাঠকের স্মৃতি আর লেখকের স্মৃতি মিলেমিশে একাকারের খেলা।
‘ক্যান্ডি ফ্লস’। উপন্যাস। লিখেছেন মাহবুব মোর্শেদ। প্রচ্ছদ করেছেন সেলিম হোসেন সাজু। মূল্য ৪০০ টাকা। বাংলাদেশি মুদ্রায়।
মাহমুদ মুস্তফি



