একটি উপলক্ষই যেন যথেষ্ট—মুখোমুখি হওয়ার, কিছুটা সময় পাশাপাশি বসে প্রাণ খুলে আড্ডা দেওয়ার। সেই অজুহাতের সূক্ষ্ম সুতোটি হাতে তুলে নিয়েছিলেন আমাদের প্রিয় সুস্মিতাদি। সেদিন ১৮ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার তাঁর নিজ বাসভবনে এক আন্তরিক ও ঘরোয়া আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো নববর্ষবরণ। কথায় সুরে বাজনায় গানে বরণ করে নেয়া হলো ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সন্ধ্যাটি ধীরে ধীরে রঙিন হয়ে ওঠে কবিতা আবৃত্তি, সুরেলা গান, প্রাণবন্ত আড্ডা আর বৈশাখী ভূরিভোজের উষ্ণতায়। ‘আনন্দ লালনকেন্দ্র’ যেন সেদিন হয়ে উঠেছিল একটুকরো প্রাণের আশ্রয়—আনন্দে, স্মৃতিতে আর মিলনের আবেশে ভরপুর।

সুস্মিতা গুহ রায়, আমাদের সুস্মিতাদির ঘরে ‘আনন্দ লালনকেন্দ্র’ নামে একটি বিশেষ কর্নার রয়েছে—একটি ছোট্ট, অথচ গভীর অর্থবাহী পরিসর, যেখানে তিনি প্রিয় কিছু মানুষকে একত্র করেন। সেখানে জড়ো হয়ে আমরা যেন জীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলি, কথার ফাঁকে ফাঁকে ছড়িয়ে দিই অনুভূতির নানান রঙিন সুতো। কবিতা, গান আর সহজ আলাপে গড়ে ওঠে এক অনির্বচনীয় আত্মিক বন্ধন।
এই যে এবারকার নববর্ষ উদযাপন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; বরং হয়ে উঠেছিল স্মৃতিতে গেঁথে থাকার মতো এক অনন্য সন্ধ্যা। বৃহত্তর ফিলাডেলফিয়ায় বসবাসরত বহু পরিচিত, পুরনো দিনের মুখের উপস্থিতি এই আয়োজনে এনে দেয় আরও এক অন্যরকম উষ্ণতা ও আপনত্ব।

কিছু মুহূর্ত থাকে, যা সময় পেরিয়েও হৃদয়ে জীবন্ত থাকে—এই সন্ধ্যাটি তেমনই এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল। বৈশাখের সন্ধ্যায় বিদেশ বিভূঁইয়ে যেন প্রহরজোড়া নাড়ির স্পন্দন শোনা গেল।
আশরাফুল ইসলাম আরিফ



