সংবাদ

দেশী ভাইবসের বৈশাখী মেলা ও পিঠা উৎসব

শেয়ার করুন:

সম্প্রতি পেনসিলভানিয়ায় দেশী ভাইবসের আয়োজনে বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা ও পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। অত্যন্ত হর্ষমুখর আবহে এই উৎসবে লোকসমাগম হয়েছিল নজর কাড়ার মতো।

সেদিন ১৯ এপ্রিল ২০২৬ রবিবার পেনসিলভানিয়ার আপার-ডারবির ঢাকা ক্লাব পার্টি সেন্টারে ‘দেশী ভাইবস’ পরিবারের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা ও পিঠা উৎসব ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশ্র পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

এই উৎসবে একটি বিশেষ আমেজ যোগ করেছে এর মেলা অংশটি। মেলায় পান্তা-ইলিশ, ঐতিহ্যবাহী পিঠা এবং বাঙালি সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। রঙিন আয়োজন ও আন্তরিক অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় এক অনন্য উৎসবের আবহ, যা প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাসুদুল হাসান সারওয়ার দ্যানিয়েল এবং সামসুম মুনিরা কস্তুরী। সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পী অভিষেক চৌধুরী, সাহাবুদ্দিন, তমাল হাসান ও জীবন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী রায়ান তাজ ও প্রমী তাজ। এছাড়া শিশুশিল্পী তানিসা, আনিসা, মনিশা ও আলীশা মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে গোটা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্রধান অতিথি ও বক্তারা তাদের বক্তব্যে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং শেকড়ের বন্ধন অটুট রাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বক্তব্য প্রদান করেন মেয়র এমএ তৈয়ব, নাট্যকার ও কবি বদরুজ্জামান আলমগীর, কবি আলী সিদ্দিক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটি ফোরামের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মাদ জাফর ইকবাল, মাসুদুল হাসান সারওয়ার দ্যানিয়েল, জেএ সুমন, সরোয়ার জাহান জীবন, মনোয়ার হোসেন তালুকদার শ্যামল, ইসরাত পারভিন, সামসুম মুনিরা কস্তুরী, মলি মজুমদার এবং শিল্পী তালুকদার।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ছড়িয়ে দিতে এবং কমিউনিটির বন্ধন সুদৃঢ় করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এই আয়োজন ভবিষ্যতেও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে সমবেত অনেকেই আশা ব্যক্ত করেন।


আশরাফুল ইসলাম আরিফ

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *