অন্তর্গত সরোবর
অঝর বৃষ্টি কলবল করে যাচ্ছে ঢুকে
আগলে রাখা অন্তর্গত সরোবরে
ভেসে যায় একূল ওকূল তপ্ত বানভাসি
সাঁতার কাটে লক্ষ কোটি দুঃখের কণা
একা এবং একসঙ্গে দোলায় দুলে দুলে
ডুবসাঁতারে মত্ত বেদনার রাজহাঁস দল।
নূপুর
সময়ের ক্লান্তি নিয়ে আসে দিন
দিনের বিহবলতায় বিমুঢ় দূপুর
বিকেলের সৌরভ মুছে অন্ধ রাত
তালহীন বেজে চলে জীবননূপুর।
অনিঃশেষ চুম্বক
সময় এখনো হয়নি প্রিয় গুডবাই বলার
আরো কিছু প্রহর আছে জীবনের খাতায়
আরো কিছু পথ উৎকর্ণ হয়ে আছে
তোমার পদযুগলের ছন্দে মাতবে বলে।
শব্দের সংসারে জমা কতো কথামালা
কত কত স্বপ্নেরা মেলেনি এখনো পাখা
শোনা হয়নি কত গান হয়নি দেখা জগতের
কত কত জনপদ সমুদ্র মানবসরোবর।
এখনো হয়নি সময় গুডবাই বলার প্রিয়
যদিও আলো নেই চোখে ঠোঁটে শব্দ রাশি
এসো ছুঁয়ে দিই দুই হৃদয়ের উদ্বেল উচ্ছ্বাস
অটুট থাকুক ভালোবাসার অনিঃশেষ চুম্বক।
রেখেছি জীবন লগ্নি
বিচ্ছেদ ও বেদনার অগ্নি উৎসবের
সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে সময়
সুতোর দুই মেরুতে ঘুরছে বিনাশী কাল
আজ এসেছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ সুনিশ্চয়।
চাইনি বলতে কখনোই গুডবাই প্রিয়
পরাভূত করেছে জরা ও যুদ্ধের অসম শক্তি
তোমার থেমে যাওয়া পথের শেষে
আমার জন্য জমিয়ে রেখেছে সীমাহীন ক্লান্তি।
কখনোই বলতে চাইনি গুডবাই প্রিয়
আজ তুষরাবৃত হৃদয়ে জ্বেলেছি শোকাগ্নি
সমর্পিত জীবনের সকল আরাধ্য আয়োজন
তোমার হৃদয়ের কাছেই রেখেছি প্রিয় লগ্নি।
হিমঘরে চাঁদ
হিমের বিষদাঁত কামড়ে ধরেছে পৃথিবী
মাটির আত্মায় চেপে বসেছে শিলাকঠিন বরফ
তুমি আছো হিমঘরের নিষ্ঠুর নৈঃশব্দ্যে নিথর
স্তব্ধ হয়ে গেছে আমার মুখর সময়ের গান।
শোকার্ত পাখিরা আসেনি তোমার আঙিনায়
কাঠবিড়ালির দল হয়ে গেছে অন্তর্ধান
পথের বিড়ালগুলো ঠিকই আসে সকাল বিকাল
দরোজা আছড়ে খাবারের জন্য ডাকছে বেদম।
সুস্মিতাদির দেয়া লিলি ফুলের টবে নতুন কুঁড়ি
মানিপ্ল্যান্টের শাখা-প্রশাখা উঁকি দিচ্ছে জানালায়
শোকেশের পছন্দের আইটেমগুলো করছে ঝলমল
বুকসেলফের বইগুলোয় একটুও নেই ধুলোবালি।
সবই আছে যথারীতি যার যার যেখানে থাকার
ঘরও আছে একেবারে পরিপাটি সাজানো গোছানো
আমিও আছি যেমন ছিলাম তোমার চাওয়ার মতো
আমার আলো আর হাসি নিয়ে চাঁদ ঘুমায় হিমঘরে।

আলী সিদ্দিকী
কবি। সম্পাদক, মনমানচিত্র


