চাঁদে ঐতিহাসিক অভিযান সম্পন্ন করে আর্টেমিস অভিযাত্রীরা নিরাপদে বাড়ি ফিরেছেন।
নাসার আর্টেমিস-২ শীর্ষক চন্দ্রাভিযানে অংশগ্রহণকারী চারজন নভোচারী পৃথিবীতে ত্রুটিহীন প্রত্যাবর্তনের পর নিরাপদে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করেছেন।
বিবিসি রিপোর্টে সর্বশেষ জানা যায়, নভোচারীরা নিরাপদে একটি অপেক্ষারত জাহাজে রয়েছেন এবং নয় দিনের এই যাত্রার ধকল থেকে সেরে উঠছেন, যা তাদেরকে ইতিহাসের অন্য যে-কোনো মানুষের চেয়ে পৃথিবী থেকে বেশি দূরে নিয়ে গিয়েছিল।
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্যপত্র বরাতে জানা যায়, এই অভিযানের ওরিয়ন মহাকাশযানটি যখন পৃথিবীর উপরের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন এটি ঘণ্টায় ২৪,০০০ মাইলেরও (৩৮,৬০০ কিমি/ঘণ্টা) বেশি গতিতে চলছিল এবং এর হিটশিল্ড বা তাপঢালটি সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অর্ধেক তাপমাত্রার সম্মুখীন হয়েছিল।
তাদের এই নিরাপদ প্রত্যাবর্তন আর্টেমিস কর্মসূচির পরবর্তী পর্যায়ের পথ সুগম করেছে, যার লক্ষ্য হলো চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষ অবতরণ করানো এবং অবশেষে চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ করা।

প্রচণ্ড তাপের কারণে, নভোচারীদের দেওয়া ‘ইন্টিগ্রিটি’ নামের ক্যাপসুলটি অবতরণের সময় ছয় মিনিটের জন্য হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের সাথে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছিল।
যখন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের কণ্ঠস্বর শোনা গেল, তখন উল্লাসধ্বনি উঠল : “হিউস্টন, ইন্টিগ্রিটি বলছি। আমরা আপনাদের কথা পরিষ্কার শুনতে পাচ্ছি।”
মিশনের চরম বিপদের মুহূর্তটি কেটে গিয়েছিল, এবং শীঘ্রই মহাকাশযানটির লাল-শাদা প্যারাসুটগুলো খুলে গেল এবং ক্যাপসুলটিকে মহিমান্বিতভাবে আকাশের বুক চিরে উড়িয়ে নিয়ে গেল।
ক্যাপসুলটি নিখুঁতভাবে সমুদ্রে অবতরণ করার আগ পর্যন্ত নাসার ধারাভাষ্যকার বারবার উচ্ছ্বসিত হয়ে প্যারাস্যুটগুলোর প্রশংসা করছিলেন।
অবতরণের অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই নাসার ধারাভাষ্যকার রব নাভিয়াস বলে উঠলেন, “ইন্টিগ্রিটি এবং এর চারজন নভোচারীর জন্যে এটি ছিল একটি নিখুঁত নিশানার অবতরণ।”
অনির্বাণ তালুকদার


