সংবাদ

নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

শেয়ার করুন:

—স্বপ্নের আমেরিকায় এসে নির্মম মৃত্যুর শিকার
—সহকর্মী ও বন্ধুদের মধ্যে শোকের ছায়া

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে একটি ফ্রাইড চিকেনের দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে রাজু নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে সহকর্মী ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে জানা গেছে।

শনিবার রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে নিউইয়র্কের East New York/Rockaway Parkway এলাকার একটি ফ্রাইড চিকেনের দোকানে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক বন্দুকধারী দোকানে প্রবেশ করে গুলি চালালে সেখানে কর্মরত দুই বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন। তাদের একজনের পায়ে গুলি লাগে এবং অপরজন রাজুর বুকে গুলিবিদ্ধ হন।

গুরুতর আহত রাজুকে দ্রুত One Brooklyn Health–Brookdale University Hospital Medical Center-এ নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত অপর বাংলাদেশি চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।

নিহত রাজুর দেশের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

রাজুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, মাত্র কয়েক বছর আগে উন্নত ও নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। কিন্তু প্রবাসজীবন শুরু করার অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হলো।

রাজুর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এক ঘনিষ্ঠজন আবেগঘন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “রাজু ভাই, আমার রুমমেট শিপন ভাইয়ের বন্ধু ছিলেন। আমেরিকায় আসার পর প্রথম দিকে তিনি আমাদের সঙ্গেই ছিলেন। আমি নিজে তাকে ফুড ডেলিভারির কাজ কীভাবে করতে হয়, তা শিখিয়ে দিয়েছিলাম। আজ সেই মানুষটি আর আমাদের মাঝে নেই—এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।”

এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনেরা রাজুর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত বন্দুকধারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জীবিকার তাগিদে অনেক বাংলাদেশি রাতের শিফটে রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি স্টোর, ডেলিভারি ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। এ ধরনের সহিংসতা তাদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

রাজুর স্বজনরা তার মরদেহ দেশে পাঠানো এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ কঠিন সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজুর মৃত্যুতে শোকাহত স্বজনদের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *